স্বপ্নের ডাক: জ্যাক মার জীবনের ১০টি অনুপ্রেরণামূলক গল্প

30 Oct 2025 12:33:03 PM

 

স্বপ্নের ডাক: জ্যাক মার জীবনের ১০টি অনুপ্রেরণামূলক গল্প

সংগ্রহে- মোঃ জয়নাল আবেদীন 

কখনো ভেবে দেখেছেন, কেমন হয় যদি এক সাধারণ শিক্ষক একদিন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অনলাইন সাম্রাজ্যের মালিক হয়ে যায়?
জ্যাক মা ঠিক তেমনই একজন মানুষ।
একজন ছোট শহরের সাধারণ ছেলে, যার ইংরেজি শেখার কোনো ভালো স্কুল ছিল না, যার পরীক্ষায় ফেল করা ছিল নিত্যদিনের ঘটনা,
যে ৩০ টিরও বেশি চাকরির আবেদন করে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল —
সেই ছেলেটিই একদিন তৈরি করেছিল Alibaba, বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্ম।

জ্যাক মার জীবনের গল্প শুধু সফলতার নয়, এটি এক অবিশ্বাস্য অধ্যবসায়ের কাহিনি,
যেখানে প্রতিটি ব্যর্থতা হয়ে উঠেছে নতুন শিক্ষার পথ।
তিনি নিজেই বলেছেন —

“You should learn from failure — not from success.”

এই বইয়ে আমরা পাবো জ্যাক মার জীবনের ১০টি বাস্তব ছোট গল্প,
যা আমাদের শেখাবে কিভাবে ব্যর্থতাকে ভালোবেসে, বিশ্বাস ধরে রেখে,স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায়।

 


 

১.রাস্তায় শেখা ইংরেজি

(The Boy Who Learned English on the Streets)

হাংঝু শহর, চীন।
১৯৬০-এর দশকের এক ছোট্ট গ্রামের ছেলে, নাম জ্যাক মা।
তার পরিবার ধনী ছিল না, স্কুলের সুযোগ সীমিত।
কিন্তু ছোট জ্যাকের ভেতর ছিল এক অদম্য কৌতূহল এবং বিশ্বকে জানতে চাওয়ার আগ্রহ।

স্কুলে ইংরেজি শেখানো হত, কিন্তু বইয়ের ভাষা ছিল কঠিন।
শব্দগুলো মনে রাখা অসম্ভব, বাক্যগঠন কঠিন।
জ্যাক হতাশ হত, পড়াশোনা বোঝা যায় না দেখে।
তবে তার মন বলত— “আমি পৃথিবীকে দেখতে চাই, মানুষকে বুঝতে চাই।”

জ্যাক বুঝল— শুধুমাত্র বই থেকে ইংরেজি শেখা সম্ভব নয়।
তাহলে তিনি গেলেন শহরের প্রধান রাস্তা, যেখানে পর্যটকরা ঘুরে বেড়াত।
প্রতিদিন সকালে ব্যাগ নিয়ে রাস্তায় দাঁড়াতেন।
পর্যটকরা আসত, তিনি সাহস করে তাদের সাথে কথা বলত।

“Hello! How are you?”
“Where are you from?”

শুরুতে মানুষরা অবাক হতো, কেউ হাসত, কেউ বিনয়ী হয়ে উত্তর দিত।
কিন্তু জ্যাক হাল ছাড়ত না।
প্রতিটি কথোপকথন তার ভেতরের আত্মবিশ্বাস বাড়াত।

প্রতিদিনের এই ছোট্ট চেষ্টা — কয়েকটা বাক্য, কয়েকটা শব্দ — তার জীবনের প্রথম বড় শিক্ষা।
তিনি শিখলেন, ভয়কে উপেক্ষা করলেই শেখা সম্ভব।
যে ছেলে বইয়ে ব্যর্থ, সেই ছেলে রাস্তায় ইংরেজি আয়ত্ত করতে শুরু করল।

একসময় পর্যটকরা তাকে চিনতে লাগল।
শুধু বাক্য নয়, তার হাসি, সাহস, কৌতূহল মানুষদের মুগ্ধ করত।
জ্যাকের চোখে তখন কেবল ভাষা শেখার আনন্দ নয়,
সেখানে ছিল বিশ্বকে জয়ের স্বপ্নের প্রথম আলোর ঝিলিক।

জ্যাক মা পরে বলেন:

“আমি রাস্তার কাছাকাছি দাঁড়িয়ে ইংরেজি শিখেছিলাম,
কিন্তু আমি সত্যিই শিখেছিলাম মানুষের সাথে যোগাযোগ করার,
সাহস দেখানোর আর কখনো হাল না ছাড়ার পাঠ।”

 


 

২. ত্রিশবার ব্যর্থ, তবু হাল ছাড়েননি

(Rejected Thirty Times, Yet Never Gave Up)

হাংঝু শহরের ছোট্ট ঘরে বসে ছিল জ্যাক মা।
তার চোখে জ্বলছিল স্বপ্নের আগুন, কিন্তু বাস্তবতা তার পথে প্রতিনিয়ত বাধা তৈরি করছিল।

জ্যাক মা কখনোই ধনী পরিবারের সন্তান ছিলেন না।
তিনি পড়াশোনা ভাল করতেন না। চাকরির জন্য আবেদন করলেই ফিরতি চিঠি হত “আপনি নির্বাচিত হননি।”
প্রথম চাকরিতে ফেল, দ্বিতীয় চাকরিতে ফেল… এইভাবে চলল ত্রিশবারেরও বেশি প্রত্যাখ্যান।

প্রতিটি বার্তা তার আত্মবিশ্বাসকে আহত করেছিল।
প্রতিটি ‘না’ যেন বলছিল— “তুমি পারবে না, তুমি অযোগ্য।”
কিন্তু জ্যাকের ভেতর ভিন্ন কিছু কাজ করছিল।

“আমি যদি হাল ছাড়ি, তবে কেউই আমার জন্য স্বপ্ন দেখবে না। আমি যদি বিশ্বাস না রাখি, কেউ কি রাখবে?”

একবার স্কুল থেকে বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে রইল।
তার চেয়েছিল বিদেশি পর্যটককে আবার হ্যালো বলবে।
এক পর্যটক অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল—

“তুমি কি এতবার ব্যর্থ হলেও আবার চেষ্টা করছ?”

জ্যাক হেসে বলল—

“হ্যাঁ। ব্যর্থতা আমার শত্রু নয়, আমার বন্ধু। আমি তা থেকে শিখি।”

এই দৃঢ় মানসিকতা তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছিল।
প্রত্যাখ্যান যত বেশি, জ্যাকের দৃঢ়তা তত বেশি শক্তিশালী হলো।

জ্যাক মা পরবর্তীতে বলেছেন—

“প্রত্যেকটি ‘না’ আমাকে নতুন কিছু শেখিয়েছে।
প্রত্যেকটি ব্যর্থতা আমাকে আরও দৃঢ় করেছে।
যদি তুমি শিখতে ভয় পাও, তবে তুমি কখনো এগোতে পারবে না।”

ব্যর্থতা কখনো তাকে ভেঙে দেয়নি।
পরিবার, বন্ধু বা সমাজের সবাই বললেও— “এটা সম্ভব নয়”,
জ্যাকের মন বলত— “আমি চেষ্টা করব। এবং একদিন সফল হব।”

 

 


 

 

৩. KFC-তে বাদ পড়া লোকটা

(The Boy Who Got Rejected by KFC)

১৯৮০-এর দশক, হাংঝু শহর।
জ্যাক মা তখন যুবক, স্বপ্নবাজ, কিন্তু বাস্তবতায় কঠিন।
চাকরির জন্য সে চেষ্টা করত একের পর এক, কিন্তু প্রতিবারই হতাশা।

একদিন সে KFC-তে চাকরির জন্য আবেদন করল।
এই আন্তর্জাতিক রেস্তোরাঁর চাকরির জন্য তিনি ভীষণভাবে উত্তেজিত ছিলেন।
তাঁর মনে ছিল—

“হয়তো এটাই আমার জীবনের প্রথম সুযোগ।”

কিন্তু প্রার্থিতা শেষে সে জানতে পারল, তিনি চাকরিতে বাছাই হননি।

জ্যাক বিস্মিত ও হতাশ হয়ে বললেন—

“আমি কি এতটা অযোগ্য? কেন?”

কিন্তু সে হাল ছাড়েনি।
বরং এই ব্যর্থতাকে জীবনের এক পাঠ হিসেবে গ্রহণ করল।
তিনি নিজেকে বললেন—

“যদি মানুষ আমাকে এখন মানে না, তবে আমি আমার নিজের পথ বানাব।
অন্যের স্বপ্নের জন্য নয়, আমার স্বপ্নের জন্য।”

জ্যাক মা পরবর্তীতে হাসিমুখে বলতেন—

“KFC আমাকে ‘না’ বলেছিল।
কিন্তু সেই ‘না’ আমাকে শিখিয়েছে—
ব্যর্থতা একদিন তোমাকে শক্তিশালী করে, যদি তুমি হাল না ছাড়ো।”

এই ছোট্ট প্রমাণ হল—
একটি প্রত্যাখ্যান, একটি ‘না’,
তোমাকে তোমার নিজের স্বপ্নের দিকে আরও দৃঢ় হতে শেখায়।

 


 

৪. ইন্টারনেট দেখা জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিলো

(The Internet That Changed His Life)

১৯৯৫ সাল।
জ্যাক মা তখন হাংঝুতে ছোট্ট অফিসে বসে কাজ করছিলেন।
বাজারে ব্যবসা, বিদেশে পণ্য বিক্রি—সব কিছু করছিলেন নিজের সীমিত ক্ষমতায়।
কিন্তু তার মনে একটি অদ্ভুত আগ্রহ কাজ করছিল— বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার খোঁজ।

একদিন তিনি প্রথমবার ইন্টারনেট দেখলেন।
সেটি ছিল এক অদ্ভুত জাদু:
পুরো পৃথিবীর তথ্য কম্পিউটারের মাধ্যমে এক জায়গায় দেখানো।

জ্যাক অবাক হয়ে বললেন—

“এটাই ভবিষ্যৎ। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সুযোগ।
যদি আমি এখনই ঝুঁকি না নিই, তবে হয়তো কখনো সুযোগ পাব না।”

তখন তার চারপাশের সবাই বলল—

“তুমি কি পাগল হয়ে গেছ? চীনে ইন্টারনেট এখনও খুবই সীমিত।”

কিন্তু জ্যাক কিছুতেই থেমে থাকলেন না।
তিনি ভাবলেন—

“আমি জানি না কিভাবে এটি করতে হবে। কিন্তু আমি চেষ্টা করব।
কারন আমি বিশ্বাস করি— ভবিষ্যতের ব্যবসা, যোগাযোগ, শিক্ষা, সবকিছুই এখানে।”

জ্যাক মাইক্রোসফট, আমেরিকার প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর অফিসে গেলেন।
শুধু দেখার জন্য, কিন্তু দেখা মাত্রই তার চোখে নতুন স্বপ্ন জ্বলে উঠল।
একটি সাদা কাগজে তিনি লিখলেন:

“আমরা চাই বিশ্বকে এক ক্লিকে যুক্ত করতে। সবাই যেন আমাদের পণ্য ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।”

সেখানে জন্ম নিল Alibaba এর প্রাথমিক ধারণা।
একটা ছোট্ট দল, এক মজবুত স্বপ্ন।
সেটি ছিল শুধুই অনুপ্রেরণা, কিন্তু জ্যাক জানতেন—

“বিশ্বকে বদলানোর স্বপ্ন শুধু কল্পনা নয়, এটি বাস্তবেও রূপ নিতে পারে।”

 


 

৫.আলীবাবার জন্ম: ছোট ঘরে বড় স্বপ্ন

(The Birth of Alibaba: A Big Dream in a Small Room)

১৯৯৯ সাল।
জ্যাক মা তখন হাংঝুর এক ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্টে বসে ছিলেন।
পরিচিতদের চোখে সে এক ব্যর্থ প্রার্থী, যার চাকরির জন্য বারবার “না” পেয়েছে।
কিন্তু জ্যাকের মনে জ্বলছিল এক অদম্য স্বপ্নের আগুন।

একদিন তিনি ঠিক করলেন—

“আমি একদিন এমন একটি কোম্পানি গড়ব, যা বিশ্বের ছোট ব্যবসা ও মানুষের জীবনের পথ পরিবর্তন করবে।”

তার চারপাশের ঘর ছোট, কম্পিউটার সংখ্যা কম, কিন্তু মনটা ছিল বিশাল।
জ্যাক কয়েকজন বন্ধু ও সহকর্মীকে ডেকে বললেন—

“আমরা একটি ওয়েবসাইট বানাবো। এটি এমন একটি জায়গা হবে যেখানে ছোট ব্যবসাগুলো সহজে তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারবে, এবং বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হবে।”

প্রথম দিনই শুরু হলো Alibaba.com।
কোনো বড় বিনিয়োগকারী নেই, কোনো বড় অফিস নেই, শুধু স্বপ্ন, ধৈর্য এবং আত্মবিশ্বাস।

প্রথম প্রাথমিক দফা ছিল কঠিন।
কম্পিউটার ক্র্যাশ, অর্থের অভাব, কাস্টমারদের আস্থা অর্জন—সব কিছুই নতুন চ্যালেঞ্জ।
কিন্তু জ্যাক মাইত্রীপূর্বক বন্ধুরা ও তার দলকে অনুপ্রাণিত করতেন—

“যদি আমরা হাল না ছাড়ি, একদিন আমরা বিশ্বের ছোট ব্যবসার জীবনে বিপ্লব আনব।”

কিছু বছর পর, ছোট সেই ঘর থেকে শুরু হওয়া ওয়েবসাইটটি বড় হয়ে উঠল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের এক অনন্য নাম—Alibaba।

 জ্যাক মা বলেছেন:

“আমাদের ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্টেই শুরু হয়েছিল।
কিন্তু আমাদের স্বপ্ন এতটা বড় ছিল যে, একদিন আমরা বিশ্বকে দেখাতে পারব।
সব বড় কাজ শুরু হয় ছোট জায়গা থেকে।”

 


 

৬. ব্যর্থতা হল বন্ধুর মতো

(Failure is Like a Friend)

জ্যাক মা-এর জীবনের গল্প শুধুই সাফল্যের গল্প নয়।
এটি ব্যর্থতার গল্প—যেটি তাকে শক্তিশালী করেছে, ধৈর্য শিখিয়েছে, এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বে তার নাম উজ্জ্বল করেছে।

ছোটবেলা থেকে তিনি বহুবার পরীক্ষায় ফেল করেছিলেন।
চাকরির জন্য আবেদন করলেন, প্রত্যাখ্যান হলো বারবার।
কেউ তাকে বিশ্বাস করত না।
বইপত্রে, শিক্ষক বা বন্ধুরা বলত—

“তুমি অযোগ্য। তুমি পারবে না।”

কিন্তু জ্যাক মা বুঝেছিলেন—

“ব্যর্থতা আমার শত্রু নয়, এটি আমার বন্ধু।
এটি আমাকে শেখায়, আমাকে শক্তিশালী করে, আমাকে প্রস্তুত করে।”

একবার তিনি একটি বড় কোম্পানির কাছে প্রজেক্ট নিয়ে গিয়েছিলেন।
তাদের বক্তব্য ছিল—

“এটি সম্ভব নয়। তুমি ব্যর্থ হবে।”

অধৈর্য না হয়ে জ্যাক বাড়ি ফিরে প্রজেক্টটি আরও ভালোভাবে তৈরি করলেন।
পরবর্তী সপ্তাহে, সেই কোম্পানি অবাক হয়ে জানল—

“তুমি ঠিকই করেছ। এটি কাজ করছে!”

প্রত্যেক ব্যর্থতা তার জন্য নতুন কিছু শিখানোর উপায় ছিল।
প্রত্যেক ‘না’ তাকে আরও দৃঢ় করে, আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল।

জ্যাক মা বলেন— “যদি তুমি ব্যর্থতার ভয়ে কিছু করার সাহস না রাখো, তুমি কখনো বড় কিছু করতে পারবে না।
ব্যর্থতা যদি তোমার বন্ধু হয়ে যায়, তখনই তুমি সত্যিকারের শিক্ষার্থী।
ব্যর্থতার মধ্যেই লুকিয়ে আছে সাফল্যের চাবিকাঠি।”

তিনি নিজের জীবনে এটি প্রমাণ করেছেন।
ত্রিশবার চাকরিতে প্রত্যাখ্যান, KFC-এর চাকরিতে ফেইল, ব্যবসার প্রথম ধাক্কা—সবই তার বন্ধু হয়ে ওঠে।

 


 

৭. টাকা নয়, বিশ্বাসই আসল পুঁজি

(Trust is the Real Capital, Not Money)

আলীবাবার শুরুতে জ্যাক মা-এর কাছে খুব কম সম্পদ ছিল।
ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া কঠিন, কোনো বড় বিনিয়োগকারীও বিশ্বাস করত না।
কিন্তু তার ভেতর ছিল এক অদম্য দৃঢ়তা এবং বিশ্বাসের শক্তি।

জ্যাক জানতেন—পুঁজি সবকিছু নয়।
সফলতা আসে মানুষের বিশ্বাস থেকে, সততা থেকে এবং দলের মনোবল থেকে।

“আমার কাছে টাকা নেই,
কিন্তু আমার আছে কয়েকজন বন্ধু, যারা বিশ্বাস করে আমার স্বপ্নে।
এবং সেই বিশ্বাসই আমাদের প্রথম পুঁজি।”

জ্যাক তার ছোট্ট দলের সঙ্গে কাজ শুরু করল।
সবার কাছে একটি নতুন ধারণা ছিল—একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট, যা ছোট ব্যবসাগুলিকে বিশ্ব বাজারে নিয়ে যাবে।
সকলকে বুঝিয়ে বললেন—

“আমরা যদি একে অপরের প্রতি বিশ্বাস রাখি, তবে অর্থের অভাব আমাদের থামাতে পারবে না।”

দলটির সদস্যরা রাতদিন পরিশ্রম করল।
প্রথম দিনগুলোতে কম্পিউটার ক্র্যাশ, সার্ভার সমস্যার মধ্যেও তারা থামেনি।
যে বিশ্বাস ছিল, সেটিই তাদের চালিত করেছিল।

 

জ্যাক মা পরবর্তীতে বলেন—“টাকা যদি থাকে, সেটা সহায়ক।
কিন্তু দল এবং মানুষের বিশ্বাস থাকলে, তুমি কিছুই করতে পারবে না না।
বিশ্বাস এবং সততা ছাড়া ব্যবসা কখনো টিকে থাকতে পারে না।”

তিনি দেখিয়েছেন— বিশ্বাস ও অধ্যবসায়ই সবচেয়ে বড় সম্পদ।
একটি ছোট দল, সীমিত সম্পদ, কিন্তু দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে তারা তৈরি করল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম।

জ্যাক মা বলেছেন:“আমার কাছে টাকা ছিল না, কিন্তু আমার দলের বিশ্বাস ছিল।
সেই বিশ্বাসই আমাকে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে।”

 


 

৮️. প্রত্যাখ্যান থেকে প্রেরণা

(Rejection as a Source of Inspiration)

জ্যাক মা-এর জীবন শুরু থেকেই ছিল চ্যালেঞ্জের সঙ্গে লড়াই।
চাকরি, স্কুল, ব্যবসা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হয়েছিলেন।
কেউ তাকে বোঝাতে চাইত—

“তুমি পারবে না। এটা তোমার জন্য নয়।”

তবু জ্যাক মা হাল ছাড়েননি।
তিনি বুঝেছিলেন—প্রত্যাখ্যান মানে শেষ নয়, বরং নতুন কিছু শেখার সুযোগ।

একবার একটি বড় কোম্পানিতে চাকরির জন্য আবেদন করলেন।ফলাফল – প্রত্যাখ্যান।
প্রথমবার হতাশ হলেন, তবে তিনি বললেন—

“ঠিক আছে, এটি কাজ করেনি। তবে আমি চেষ্টা চালাব।”

প্রত্যেক ‘না’ তাকে আরও শক্তিশালী করে তুলল।
প্রত্যেক ব্যর্থতা তাকে নতুন দক্ষতা, নতুন কৌশল, নতুন দৃঢ়তা শিখিয়েছে।

“যদি কেউ তোমাকে ‘না’ বলে, দুঃখ করো না।
বরং ভাবো, এটি আমাকে পরবর্তী চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত করছে।”

প্রথম ব্যর্থতা থেকে শুরু করে, ছোট ছোট প্রত্যাখ্যানগুলি জ্যাক মা-এর জন্য হয়ে ওঠে প্রেরণার শক্তি। তার দৃঢ় মনোবল, অনুপ্রেরণার দৃষ্টিভঙ্গি তাকে আলীবাবার মতো বিশ্বখ্যাত কোম্পানি তৈরি করতে সাহায্য করে।

 জ্যাক মা বলেছেন:“প্রত্যেকবার আমাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।কিন্তু সেই প্রত্যাখ্যান আমাকে আরও দৃঢ় করেছে। আজ আমি জানি—ব্যর্থতা ছাড়া সাফল্য কখনো সম্ভব নয়।”

 


 

৯️. ভবিষ্যৎ যাদের জন্য, তারা স্বপ্ন দেখে

(The Future Belongs to Those Who Dream)

জ্যাক মা বিশ্বাস করতেন—যারা স্বপ্ন দেখে, তারাই ভবিষ্যত তৈরি করে।
তিনি তরুণদের কাছে বারবার বলতেন—

“তোমরা যদি স্বপ্ন দেখো না, কেউ তোমার জন্য স্বপ্ন দেখবে না।”

একবার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছিলেন—

“তোমাদের বয়স এখন সবচেয়ে বড় শক্তি।
স্বপ্ন দেখো, বোকা হও—কারণ যাদের বোকামি নেই, তাদের কোন নতুনত্ব নেই।”

জ্যাক মা জানতেন—তরুণ বয়স মানেই সাহস।
ভয়, সন্দেহ, ব্যর্থতার আশঙ্কা থাকলেও, স্বপ্নই শক্তি।
যদি তুমি ছোটবেলায় স্বপ্ন দেখো, বড় হওয়ার পরে সে স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পারে।

জ্যাক মা নিজের জীবনের গল্প তুলে ধরতেন—
ছোট শহরের ছেলে, যিনি রাস্তার পাশে ইংরেজি শিখেছিল,
যিনি চাকরিতে ত্রিশবার ব্যর্থ হয়েছিল,
যিনি KFC-এর চাকরিতেও ফেল হয়েছিল—
তবু তিনি স্বপ্ন দেখেছিল,
আর সেই স্বপ্নই তাকে আলীবাবার প্রতিষ্ঠাতা বানিয়েছে।

তিনি বলতেন—“ভবিষ্যতের জন্য তোমার হাতেই ক্ষমতা আছে।
স্বপ্ন দেখো, চেষ্টা করো, অধ্যবসায় করো।
একদিন সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে।”

 


 

১০. শেষ কথা: কখনো হাল ছেড়ো না

(Final Words: Never Give Up)

জ্যাক মা-এর জীবন হলো একটি ব্যর্থতা থেকে সাফল্যের অনুপ্রেরণার কাহিনি।
প্রথম থেকেই তাকে প্রতিনিয়ত ‘না’ শোনতে হয়েছিল—চাকরিতে, ব্যবসায়, এমনকি ছোট ছোট স্বপ্ন পূরণে।
কিন্তু তিনি কখনো হাল ছাড়েননি।

“যদি তুমি হাল ছাড়ো, তুমি কখনো জানবে না তুমি কীভাবে সফল হতে পারবে।”

জ্যাক মা বলেন—

“আমি জানি, তোমাদের জীবনে অনেক ব্যর্থতা আসবে।
অনেক মানুষ বলবে—‘তুমি পারবে না’।
কিন্তু তুমি যদি হাল না ছেড়ো, সেই মুহূর্তে তুমি শক্তিশালী।
প্রত্যেক ব্যর্থতার মধ্যে লুকিয়ে আছে তোমার পরবর্তী সাফল্যের বীজ।”

তাঁর জীবনই প্রমাণ—
ত্রিশবার চাকরিতে ব্যর্থ হলেও, KFC-তে বাদ পড়লেও, ব্যবসায় প্রথম ধাক্কা খেয়েও,
শেষ পর্যন্ত তার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিলো।