উদ্ভাবনই সাফল্যের মূল: ল্যারি পেজ এর গুগল প্রতিষ্ঠার কাহিনি

28 Oct 2025 11:25:49 PM

উদ্ভাবনই সাফল্যের মূল: ল্যারি পেজ এর গুগল প্রতিষ্ঠার কাহিনি

  • মোঃ জয়নাল আবেদীন 

 

১৯৭৩ সালের ২৬ মার্চ, মিশিগান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-এ জন্ম নিল এক ছোট ছেলে— ল্যারি পেজ। তাঁর বাবা, ক্যারল পেজ, কম্পিউটার বিজ্ঞানী, আর মা, গ্লেন্ডা মাদারপেজ, গণিত শিক্ষক।

ল্যারি ছোট থেকেই আলাদা ছিলেন।খেলাধুলার চেয়ে তিনি কম্পিউটার ল্যাবে বসে নতুন প্রোগ্রাম তৈরি করা পছন্দ করতেন।তাঁর ঘর ছিল বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ও বইয়ে ভর্তি।ছোট বেলা থেকেই তিনি প্রশ্ন করতেন, পরীক্ষা করতেন, কখনো ভুল হলেও থেমে থাকতেন না।

তিনি শিখেছিলেন— “প্রশ্ন করা ভয় পাওয়ার বিষয় নয়, বরং প্রশ্ন করাই নতুন উদ্ভাবনের জন্ম দেয়।”

ল্যারি বুঝতে পারছিলেন, ভবিষ্যৎ পৃথিবী ডেটা ও প্রযুক্তির দ্বারা বদলে যাবে। তাই স্কুল শেষ করে তিনি স্বপ্ন দেখলেন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার।

ছোটবেলায় ল্যারি প্রায়ই কম্পিউটারের কাছে বসে বলতেন,“আমি একদিন এমন কিছু বানাবো, যা পৃথিবীকে সহজ করবে।”

১৯৯১ সালে ল্যারি পেজ স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখলেন। তাঁর চারপাশের পরিবেশ একেবারে নতুন—উঁচু বিল্ডিং, বিশাল লাইব্রেরি, অসংখ্য ছাত্রছাত্রী এবং কম্পিউটার ল্যাবের ভিড়। তবে ল্যারি একেবারেই নতুন পরিবেশে হার মানতে চাচ্ছিলেন না। তিনি জানতেন, এখানে বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীরা, প্রযুক্তিবিদ এবং উদ্যোক্তারা আছেন।

ছাত্রজীবনের প্রথম দিন থেকেই ল্যারি ছিলেন কৌতূহলী, উদ্ভাবনী চিন্তাধারার অধিকারী। তিনি ল্যাবের কম্পিউটারগুলো নিয়ে পরীক্ষা করতে লাগলেন, নতুন প্রোগ্রাম লিখলেন, এবং ছোট ছোট যন্ত্র তৈরির চেষ্টা করলেন। ল্যারি সবসময় ভাবতেন—

“তথ্য যত দ্রুত ও সহজভাবে মানুষের কাছে পৌঁছাবে, তত বেশি তারা জীবনকে সমৃদ্ধ করতে পারবে।”

কিন্তু এই স্বপ্ন একা বাস্তবায়ন করা কঠিন। তখনই তাঁর জীবনে আসলেন সার্গে ব্রিন, এক তরুণ বিজ্ঞানী যিনি কম্পিউটার বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তিতে সমান আগ্রহী। প্রথম পরিচয়ে তারা বুঝলেন, দুজনের চিন্তা একেবারে মিলছে— “ওয়েবের বিশাল তথ্যকে প্রাসঙ্গিকভাবে মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।”

সার্গে এবং ল্যারি রাতদিন একসাথে কাজ শুরু করলেন। তারা লক্ষ্য করলেন, ওয়েব পেজের সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে। তথ্যের সমুদ্রের মধ্যে কেউ প্রাসঙ্গিক তথ্য খুঁজে পাচ্ছে না। ল্যারি বললেন—

“মানুষের জন্য তথ্য সহজলভ্য করতে না পারলে, প্রযুক্তি অকার্যকর।”

এই চিন্তাভাবনার মধ্য দিয়ে জন্ম হলো PageRank Algorithm।

  • এটি নির্ধারণ করত কোন ওয়েবপেজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

  • শুধু তথ্য খুঁজে বের করা নয়, ব্যবহারকারীর জন্য সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক তথ্য সরবরাহ করাই মূল লক্ষ্য।

তাদের কাজ ছিল একেবারেই নতুন। কেউ বিশ্বাস করতে পারত না যে, দুই তরুণ বিজ্ঞানী একদিন ইন্টারনেটের ধারা পরিবর্তন করবে। ল্যারি ও সার্গে বুঝতে পারছিলেন— এই ধারণা কেবল শিক্ষা ও পরীক্ষা নয়, এটি হবে মানুষের জীবন বদলানোর একটি বড় মাধ্যম।

ল্যারি পড়াশোনার বাইরে ব্যক্তিগত জীবনেও কৌতূহলী ও উদ্ভাবনী ছিলেন। তিনি নতুন প্রযুক্তি ও প্রোগ্রামের সঙ্গে পরীক্ষা করতেন, কখনও কখনও রাত্রি জাগা ও কফির কাপ নিয়ে ল্যাবে বসে সার্গের সঙ্গে আলোচনা করতেন। তিনি ভাবতেন—

“একটি সঠিক ধারণা যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা কোটি মানুষের জীবন সহজ করতে পারে।”

তাদের বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে পরিপূর্ণ সহযোগিতায় পরিণত হলো। একসাথে তাঁরা ওয়েব পেজগুলোর বিশাল তথ্য বিশ্লেষণ করে, মানুষের অনুসন্ধানের প্যাটার্ন বোঝার চেষ্টা করতেন। এই সময়ে তারা শিখলেন— “শুধু কোড বা অ্যালগরিদম যথেষ্ট নয়; মানুষকে বোঝা আর তাদের চাহিদা মেটানোই প্রকৃত উদ্ভাবন।”

স্ট্যানফোর্ডের ল্যাব, ছোট কম্পিউটার, অর্ধরাত্রি—এই পরিবেশেই ল্যারি পেজ এবং সার্গে ব্রিনের স্বপ্ন ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নিতে লাগল। তারা বুঝতে পেরেছিলেন, শুধুমাত্র ওয়েব পেজ খুঁজে বের করা যথেষ্ট নয়। তথ্য মানুষের কাছে প্রাসঙ্গিক ও সহজলভ্যভাবে পৌঁছানো প্রয়োজন।

১৯৯৭ সালে এই স্বপ্নকে একটি নাম দিলেন— “Google”। নামটি এসেছে googol থেকে, যা ১-এর পরে ১০০টি শূন্যের সংখ্যা বোঝায়। এই নামের মাধ্যমে তারা বোঝাতে চেয়েছিলেন, ওয়েবের বিশাল তথ্যের সমুদ্রকে কতটা বড় এবং বিস্তৃতভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

গুগল তখন ছিল শুধুই একটি ছোট গ্যারেজ প্রজেক্ট। ল্যারি নিজেই সার্ভারের সমস্যা ঠিক করতেন, সার্গে কোড লিখতেন, দুজন মিলে রাত জেগে কাজ করতেন। প্রায় প্রতিটি দিনই তারা নতুন নতুন অ্যালগরিদম পরীক্ষা করতেন। কখনও ব্যর্থ হতেন, কখনও সাফল্য হত, কিন্তু থেমে থাকতেন না।

প্রথমবার গুগল ব্যবহারকারীর জন্য উন্মুক্ত হলো ১৯৯৮ সালে। ছোট হলেও এই মুহূর্তটি ছিল যুগান্তকারী। মানুষ তখন বুঝতে পারল, একেবারে নতুন কিছু এসেছে— এক সার্চ ইঞ্জিন যা শুধুমাত্র তথ্য খুঁজে দিচ্ছে না, বরং সঠিক তথ্যকে গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করছে।

ল্যারি একদিন সার্গের দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন—

“আমরা শুধু সার্চ ইঞ্জিন বানাচ্ছি না, আমরা মানুষের জন্য জ্ঞানের দরজা খুলছি।”

যদিও গুগল তখন কেবল স্ট্যানফোর্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু এই ছোট শুরু বিশ্ব জয়ের বীজ হয়ে উঠেছিল। ল্যারি ও সার্গে বুঝেছিলেন, তাদের কাজ কেবল ব্যবসা নয়— এটি মানুষের জীবন সহজ করার এক মহান প্রয়াস।

১৯৯৮ সালে গুগল প্রথমবারের মতো সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হলো। ছোট গ্যারেজ প্রজেক্টটি ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হতে লাগল। কিন্তু এই সময়েই আসলো প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ।

বিনিয়োগকারীরা তখন বিশ্বাস করছিলেন না যে, সার্চ ইঞ্জিন থেকে বড় ব্যবসা সম্ভব। অনেকেই বলেছিলেন—“দুই তরুণ বিজ্ঞানী এবং তাদের ছোট প্রজেক্ট? এটি দীর্ঘস্থায়ী হবে না।”

ল্যারি পেজ ও সার্গে ব্রিন জানতেন, চ্যালেঞ্জ এড়ানো সম্ভব নয়। তাই তারা নিজেরা নতুন পদ্ধতি তৈরি করলেন—বিজ্ঞাপন যুক্ত করে অর্থায়ন, কিন্তু ব্যবহারকারীর জন্য কোনও অসুবিধা হবে না। সার্চ রেজাল্টকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তোলা। কম্পিউটার সার্ভার ও ডাটাবেস বৃদ্ধি করে, ওয়েবের বিস্তৃত তথ্য সামলানো।

ল্যারি বলতেন,“আমরা কেবল টাকা আয়ের জন্য কাজ করি না, আমাদের লক্ষ্য মানুষের জীবন সহজ করা।”

এই সময়ে গুগলের ছোট দল রাতদিন এক করে কাজ করত। ল্যারি নিজে সার্ভারের সমস্যা সমাধান করতেন, সার্গে অ্যালগরিদম উন্নত করতেন। তাদের এই কঠোর পরিশ্রম ধীরে ধীরে ফল দিতে শুরু করল।

২০০৪ সালে গুগল পাবলিক কোম্পানি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল। স্টক মার্কেটে তাদের প্রবেশই প্রমাণ করল,“ছোট শুরু হলেও সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিশাল সাফল্য সম্ভব।”

এই সময় ল্যারি শিখলেন—উদ্ভাবনই সাফল্যের মূল।ধৈর্য ও নেতৃত্ব ছাড়া কিছু সম্ভব নয়।মানুষকে বোঝা, তাদের প্রয়োজন মেটানো ও ব্যবহারকারীর সুবিধা নিশ্চিত করাই প্রকৃত উদ্ভাবনের চাবিকাঠি।

ল্যারি এবং সার্গে বুঝতে পারলেন, তাদের কাজ শুধু একটি প্রযুক্তি নয়, এটি মানুষের জীবন বদলের যাত্রা। ছোট গ্যারেজ থেকে শুরু, এখন গুগল বিশ্বব্যাপী মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে।

২০০৪ সালের পর গুগল কেবল সার্চ ইঞ্জিন নয়—এটি হয়ে উঠল মানুষের জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ। ল্যারি পেজ ও সার্গে ব্রিন বুঝতে পারলেন, প্রযুক্তি মানুষের জীবন সহজ করতে পারলে তা সত্যিকারের উদ্ভাবন।

গুগল এই সময়ে নতুন নতুন প্রকল্প শুরু করল—

  • Gmail: ইমেইলের জগতে বিপ্লব।

  • Google Maps: মানুষ আর হারাবে না, পৃথিবী হাতের মুঠোয়।

  • YouTube: ভিডিও দেখে শেখা আর বিনোদন, একসাথে।

  • Android: মোবাইল ফোনে প্রযুক্তির নতুন যুগ।

ল্যারি সবসময় বলতেন— “প্রযুক্তি শুধু সুবিধা নয়, এটি মানুষকে শক্তিশালী করার হাতিয়ার।”

তারা নতুন উদ্ভাবনের সীমা ছাড়িয়ে গেলেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংচালিত গাড়ি, স্বাস্থ্য প্রযুক্তি—সবই মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করার জন্য।

গুগলের লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট—“মানুষের জীবন সহজ করা, তথ্যের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, আর প্রযুক্তি দিয়ে মানুষের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।”

এই সময়ে ল্যারি শিখলেন, বড় কোম্পানি হওয়া মানে কেবল লাভ নয়। সাফল্য আসে উদ্ভাবন, সততা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে।

ছোট ল্যাব থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা এখন বিশ্বজুড়ে মানুষের জীবনকে স্পর্শ করছে। ল্যারি ও সার্গে বুঝলেন, উদ্ভাবনের সঠিক ব্যবহারই মানুষকে শক্তিশালী করে এবং সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

২০১৫ সালের দিকে ল্যারি পেজ বুঝতে পারলেন, গুগল কেবল সার্চ ইঞ্জিন বা একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নয়। এটি ছিল একটি বিশ্বব্যাপী প্রভাব বিস্তারকারী শক্তি, যা মানুষের জীবনকে সহজ করার পাশাপাশি সমাজ ও অর্থনীতিকেও বদলে দিতে পারে। সেই লক্ষ্যেই গুগলকে পুনর্গঠন করা হলো—নতুন নামে Alphabet Inc.

এখন ল্যারি পেজ কেবল প্রযুক্তি উদ্ভাবক নন, তিনি হয়ে উঠলেন দূরদর্শী নেতা, যার লক্ষ্য ছিল নতুন প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিশ্বের বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা।

ল্যারি এবং তার দল শুরু করলেন স্বয়ংচালিত গাড়ি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রকল্প। তারা চেয়েছিলেন, প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে নিরাপদ, দ্রুত এবং সহজ করবে।

  • স্বয়ংচালিত গাড়ি: দূর্ঘটনা কমানো এবং মানুষের ভ্রমণকে আরও সহজ করা।

  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অর্থনীতির ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আরও দ্রুত এবং নিখুঁত করা।

ল্যারি বিশ্বাস করতেন—“ভবিষ্যৎ সেই প্রযুক্তির, যা মানুষের জন্য বাস্তবিক সুবিধা নিয়ে আসে। উদ্ভাবন মানে কেবল নতুন কিছু বানানো নয়, মানুষের জীবনকে উন্নত করা।”

গুগল আর ল্যারি কেবল প্রযুক্তি বিকাশে সীমাবদ্ধ ছিলেন না। তারা নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপকে উৎসাহ দিতেন।

  • বিনিয়োগ ও সহযোগিতা: নতুন ব্যবসা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে তরুণদের সহায়তা।

  • শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রযুক্তি: বিভিন্ন দেশে মানুষের জীবনমান উন্নত করার প্রকল্প।

ল্যারি সবসময় তরুণদের কাছে বলতেন— “ছোট স্বপ্ন দেখো না। সাহসী হও। যদি তুমি মানুষকে সাহায্য করতে পারো, তোমার উদ্ভাবন সত্যিকারের মূল্য পাবে।”

ল্যারি পেজ আজও তার সাধারণ জীবনধারা বজায় রেখেছেন। বিলাসবহুল নয়, বরং সহজ, কিন্তু হৃদয়ে বিশাল স্বপ্ন।

  • তিনি কম্পিউটার, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের মাধ্যমে মানুষের জীবন সহজ করতে চান।

  • তিনি বিশ্বাস করেন—উদ্ভাবন কেবল নতুন কিছু বানানো নয়, এটি মানুষের জন্য প্রভাব তৈরি করা।

তার জীবন প্রমাণ করে, কেবল সাফল্য নয়, মানবতার সেবা এবং উদ্ভাবনের নীতি-ই তাকে বিশ্বজয়ের পথে নিয়ে গেছে।

ল্যারি পেজের জীবন আমাদের শেখায়—

  • কৌতূহল ও স্বপ্ন বড় হোক।

  • সঠিক বন্ধু ও সহযোগিতা থাকুক।

  • উদ্ভাবনের মাধ্যমে মানুষের জীবনকে সহজ ও শক্তিশালী করা হোক মূল লক্ষ্য।

““স্বপ্ন দেখো, উদ্ভাবন করো, আর মানুষের জীবন সহজ করার জন্য কাজ করো—
সাফল্য তখনই আসে।”