রেডিয়ামের আলোয় আলোকিত নারী: মেরি কুরির সাহসের গল্প

26 Oct 2025 08:35:23 AM

রেডিয়ামের আলোয় আলোকিত নারী: মেরি কুরির সাহসের গল্প

  • মোঃ জয়নাল আবেদীন 



৭ নভেম্বর ১৮৬৭, পোল্যান্ডের ওয়ারসো শহর।
শীতের কুয়াশা নদীর পাড়ে জমে থাকা বরফকে ঢেকে রেখেছিল,
কিন্তু ছোট্ট মেরি স্কোডোস্কা ঘরের কোণে বসে তা উপেক্ষা করল না।
তার চোখে কৌতূহলের জ্যোতি, হাতে পেন্সিল আর খাতায় অদ্ভুত খসড়া।

তার বাবা স্কুল শিক্ষক, মা ছিলেন ধর্মপ্রাণ ও সহানুভূতিশীল।
মেরি ছোটবেলা থেকেই বিশেষ—শুধু পড়াশোনা নয়,
সে প্রশ্ন করত—কেন, কীভাবে, কোথা থেকে?
পাখির উড়ান, নদীর পানি, রাতের তারা, সূর্যের আলো—
সবকিছু তার কৌতূহলকে আরও উস্কে দিত।

একদিন, মা তাকে বললেন,

“মেরি, তুমি আবারও আকাশের তারা নিয়ে ভাবছো। বিশ্রামও দরকার।”

মেরি হাসল,

“মা, আমি শুধু দেখি, খুঁজে পাই। যদি না জিজ্ঞাসা করি, আমি কখনো শিখব না।”

মায়ের চোখে অভিমানী হাসি ফুটল, কিন্তু সে জানত—মেরির মন এখনো অন্যত্র, জ্ঞান খুঁজে বেড়াচ্ছে।

১৮৭৩ সালে, মাত্র ছয় বছর বয়সে, মেরি একটি ছোটখাটো নোটবুক কিনল।
সেখানে সে লিখত—তার নিজস্ব পর্যবেক্ষণ, ছোটখাটো পরীক্ষা, অদ্ভুত ভাবনা।
প্রতিটি খাতা যেন তার স্বপ্নের বীজ হয়ে উঠল।
প্রতিটি সূত্র, প্রতিটি ছবি, প্রতিটি নোট তাকে ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক বানাচ্ছিল।

সময় কাটল।
১৮৮৩ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে মেরি স্কুল শেষ করল।
পোল্যান্ডে মেয়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ নেই।কিন্তু মেরি জানত—তার স্বপ্ন থামানো সম্ভব নয়।

রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে সে বলল— “একদিন আমি শুধু পড়াশোনা করব না।
আমি এমন কিছু আবিষ্কার করব, যা পৃথিবীকে আলোকিত করবে।
মানুষকে দেখাব সত্যের আলো কখনো নিভে যায় না।”

এভাবেই মেরি কুরির শৈশবের দিনগুলো কেটে গেল,
কৌতূহল, অধ্যবসায় এবং সাহসের বীজ বপন করে,
যা পরবর্তী জীবনে তাকে বিশ্বের এক আলোকপ্রদর্শক বানাবে।

১৮৮৪ সালের বসন্ত, মেরি স্কোডোস্কা পোল্যান্ডের ছোট শহর ওয়ারসো ছেড়ে পাড়ি দিলেন ফ্রান্সের প্যারিসে, স্বপ্নের শহরে পড়াশোনার জন্য।
তার লক্ষ্য— সর্বন বিশ্ববিদ্যালয় (Sorbonne), যেখানে তিনি পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে নিজেকে চ্যালেঞ্জ করতে চাইতেন।

শহরটি ছিল নতুন, ব্যস্ত, শব্দে ভরা।
রাস্তার ধুলো, গাড়ির শব্দ, বাজারের চিৎকার—
সবকিছু তার চোখে নতুন, কিন্তু মন স্থির।
মহান শহরের পণ্ডিতদের মাঝে একজন তরুণী নারী—
বিশেষ করে বিদেশি—খুবই অচেনা।
অনেকেই বলত,“মেয়ে হিসেবে এখানে তুমি সফল হতে পারবে না।”

কিন্তু মেরি থামেনি।
প্রথম দিনই সে ল্যাবরেটরির দরজা ঠকিয়ে প্রবেশ করল,
পড়াশোনায় মনোনিবেশ করল,
রাতভর পরিশ্রম করল।
প্রথমে ল্যাবের সরঞ্জাম, পদার্থ ও সূত্র সবই অচেনা।
তবু ধীরে ধীরে সে মানিয়ে নিল, শিখল, চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করল।

মেরির দিনগুলো কেটে যেত পাঠশালা, লাইব্রেরি, এবং ল্যাবরেটরিতে।
রাতের পর রাত, সে অচেনা ধাতু, রাসায়নিক দ্রব্য ও যন্ত্রপাতি নিয়ে পরীক্ষা করত।
বন্ধুরা বিশ্রাম নিত, খেলা করত, কিন্তু মেরির চোখের অন্ধকার কখনো নিভত না।

১৮৯১ সালে, মেরি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করলেন।
এটি ছিল কেবল একটি মাত্র সার্টিফিকেট নয়,
বরং স্বপ্নের পূর্ণতার সূচনা।
সে জানত—এখন আসল যুদ্ধ শুরু হচ্ছে,
একদিন সে এমন আবিষ্কার করবে যা মানবজাতিকে আলোকিত করবে।

রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে, মেরি বলল— “ফ্রান্সের এই শহর আমাকে শিক্ষা দিয়েছে,
কিন্তু সত্যি আলোকিত হওয়ার জন্য আমার পথ আরও কঠিন।”

১৮৯৪ সালের এক গ্রীষ্মের দিন। প্যারিসের নরম রোদে এক তরুণী ছুটে চলেছেন ল্যাবরেটরির পথে। তাঁর নাম মারিয়া স্ক্লোদোভস্কা, কিন্তু সবাই তাঁকে ডাকে মেরি নামে। তিনি পোল্যান্ড থেকে এসেছেন, একটিই স্বপ্ন নিয়ে— বিজ্ঞানকে ভালোবাসা, সত্যকে খোঁজা।

মেরি তখন পড়াশোনা শেষ করে গবেষণার কাজ খুঁজছিলেন। এক বন্ধুর মাধ্যমে তাঁর পরিচয় হয় এক তরুণ বিজ্ঞানী পিয়েরে কুরি-র সঙ্গে। পিয়েরে ছিলেন শান্ত, বিনয়ী এবং পুরোপুরি গবেষণায় ডুবে থাকা মানুষ।
প্রথম দেখা থেকেই দু’জনের মধ্যে এক অদ্ভুত সখ্যতা গড়ে ওঠে। তারা দুজনেই বিজ্ঞানের প্রতি পাগলপ্রায় ভালোবাসা পোষণ করতেন। ল্যাবরেটরির টেবিলের ওপরে রাসায়নিক পদার্থের মাঝে জন্ম নেয় এক নীরব প্রেম।

দিনের পর দিন তারা একসাথে কাজ করতেন— পদার্থবিজ্ঞান, চৌম্বকত্ব, রেডিও-অ্যাক্টিভিটি নিয়ে। পিয়েরে তাঁর গবেষণায় যেমন নিখুঁত ছিলেন, মেরিও ছিলেন তেমনি অধ্যবসায়ী। কাজের ফাঁকে কখনো চোখাচোখি হলে দু’জনেই হেসে উঠতেন। সেই হাসিতেই লুকিয়ে ছিল ভবিষ্যতের ভালোবাসা।

পিয়েরে একদিন সাহস করে মেরিকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন।
কিন্তু মেরি চুপ রইলেন। তিনি বললেন, “আমার মাতৃভূমি পোল্যান্ডে ফিরে গিয়ে কাজ করতে হবে। সেখানে বিজ্ঞান নিয়ে কিছু করতে চাই।”
পিয়েরে থেমে গেলেন না। তিনি বললেন, “তুমি যদি পোল্যান্ডে ফিরে যাও, আমি তোমার সঙ্গে যাব। বিজ্ঞানের পথে আমরা একসাথে হাঁটব।”
এই কথাতেই মেরির হৃদয় নরম হয়ে গেল।

১৮৯৫ সালের ২৬ জুলাই, তারা একেবারে সাধারণভাবে বিয়ে করলেন। না কোনো রাজকীয় আয়োজন, না কোনো গহনা। বিয়ের পোশাক হিসেবে মেরি পরেছিলেন সাদা পোশাক নয়— বরং একটি নীল ল্যাবরেটরি কোট, যেটি পরে তিনি ল্যাবে কাজও করতেন!
তাদের বিয়ের উপহার ছিল একজোড়া সাইকেল— যাতে তারা একসাথে গ্রামাঞ্চলে বেড়াতে যেতে পারেন।

বিয়ের পর তারা দুজন একসাথে কাজ করতে লাগলেন। দিনরাত ল্যাবরেটরিতে গবেষণা চলত। 

মেরি এবং পিয়ের ছোট ছোট উরানিয়াম খনিজের টুকরো নিয়ে গবেষণা করতেন।
প্রথমে শুধু পরীক্ষাগারের কোণে বসে পরিমাপ, হিসাব, সূত্র। কিন্তু ধীরে ধীরে তাদের হাতে ল্যাবরেটরি হয়ে উঠল এক অদ্ভুত আলোকের কেন্দ্র,
যেখানে পৃথিবীর বাইরে থাকা শক্তি ও আলোকে অনুধাবনের চেষ্টা হত।

১৮৯৮ সালে তারা আবিষ্কার করলেন নতুন উপাদান পোলোনিয়াম (মেরির জন্মভূমির নামে), এরপর রেডিয়াম।

১৮৯৮ সালে, তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের প্রতিফলন—
তারা আবিষ্কার করলেন দুটি নতুন মৌলিক পদার্থ:

  • পলোনিয়াম—মেরির জন্মভূমি পোল্যান্ডের সম্মানস্বরূপ নামকরণ।

  • রেডিয়াম—অদ্ভুত আলোর উৎস, যার আলো গবেষণার জগতে বিপ্লব আনবে।

এই আবিষ্কার কেবল বিজ্ঞানী নয়, মানবজাতির জন্য এক নতুন আলোর সূচনা।
রেডিয়ামের আলো চিকিৎসা, শিল্প, বিজ্ঞান—সব ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আনবে।

তাদের কাজ ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
ল্যাবরেটরির বাতাস, ধুলো ও ধাতব কণা—সবকিছুই রেডিয়েশনের প্রভাবে ক্ষতি করতে পারত।
তবু মেরি থেমে থাকলেন না।
একদিন পিয়েরকে বললেন—

“পিয়ের, আমাদের হাতই শুধু আলোকের উৎস নয়, আমাদের মন ও ধৈর্যও আলোকিত।
এই আলো মানুষকে জীবন দেখাবে।”

তাদের আবিষ্কৃত রেডিয়াম ছিল নিখুঁত, শুদ্ধ,
তবে এর সঙ্গে ছিল বিপদ।
মেরি ও পিয়েরের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল,
তবু তারা প্রতিটি পরীক্ষা, প্রতিটি পরিমাপ, প্রতিটি সূত্রকে গুরুত্ব সহকারে চালিয়ে যাচ্ছিল।

১৮৯৮ সালের শেষ দিকে, তাদের গবেষণা সারা ইউরোপে চমক সৃষ্টি করল।
প্রথমবার বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারলেন—মহাকাশের শক্তি, রেডিয়েশনের আলো, মানবজাতির কল্যাণের জন্য ব্যবহৃত হতে পারে।

এভাবেই মেরি কুরি ও পিয়ের কুরির যৌথ পরিশ্রমের আলো ধীরে ধীরে পৃথিবীর জ্ঞানভান্ডারে জায়গা করে নিল। তাদের জীবনের গল্প তখন পুরো বিশ্বের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠল— দাম্পত্যের মধ্যে এমন বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা ইতিহাসে বিরল।

১৯০৩ সালের বসন্ত, মেরি কুরি ও পিয়ের কুরি প্যারিসের ল্যাবরেটরিতে বসে আছেন।
গবেষণার রাতগুলো তাদের হাতে অশেষ পরিশ্রম বয়ে এনেছে।
পত্রিকায় খবর এল— নোবেল পুরস্কারের মনোনয়ন তালিকায় তাদের নাম।

মেরির হৃদয় ধনুকের মতো টানটান।
সে ভাবল,

“এ কি কেবল আমার স্বপ্নের সফলতা, নাকি
মানুষের জন্য আলোর এক নতুন দিশা?”

১৯০৩ সালের নভেম্বরে, মেরি ও পিয়ের কুরি পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন।
মেরি কেবল একজন নারী নয়, প্রথম নারী বিজ্ঞানী যিনি নোবেল জয় করলেন।
পুরস্কার গ্রহণের দিন, তিনি ভেবেছিলেন—

“এই সম্মান কেবল আমার নয়,
আমাদের গবেষণার প্রতিটি রাত, প্রতিটি হিসাব, প্রতিটি পরীক্ষা সকলের।”

কিন্তু সুখ বেশিদিন টিকল না। ১৯০৬ সালের এক বৃষ্টির দিনে পিয়েরে এক দুর্ঘটনায় মারা যান। মেরি ভেঙে পড়লেন, তবুও থামলেন না।
তিনি বললেন, “আমাদের স্বপ্ন এখনো শেষ হয়নি।”
তিনি একাই ল্যাবে ফিরে গেলেন, স্বামীর অসমাপ্ত কাজ শেষ করলেন। 

মেরি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত পিয়েরে-র নাম ভুলেননি। তাঁদের ভালোবাসা ছিল প্রেম নয়, একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও বিজ্ঞানের প্রতি অমর বিশ্বাসের বন্ধন।
দু’জনেই একসাথে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন— প্রথম যুগল হিসেবে নোবেল পুরস্কার জয়ী দম্পতি হিসেবে।

কিন্তু তার জীবনে চ্যালেঞ্জ এখানেই শেষ হয়নি।
১৯১১ সালে, মেরি একাই রসায়নে নোবেল জয় করলেন, যা তখনকার সমাজে বিরল।
নারী হিসেবে একা লড়াই, একা সম্মান—
সাহসিকতার এক নতুন অধ্যায়।

সমাজের ধ্যানধারণা, লিঙ্গ বৈষম্য, স্বাস্থ্য ঝুঁকি—
সবকিছুই তাকে থামাতে চাইছিল।
কিন্তু মেরি বলতেন—

“সত্যের জন্য সাহস দরকার, আর সাহসকে ভয় করতে হয় না।
যে সত্যকে আমরা অনুসরণ করি, সেটিই আলোকিত করবে পৃথিবী।”

পুরস্কারের অনুষ্ঠান, ল্যাবের রাতগুলো, বইয়ে লেখা নোটবুক—
সবকিছুই মিলিয়ে মেরি কুরির সংগ্রামের প্রতীক হয়ে উঠল।
তাঁর জন্য গবেষণা ছিল কেবল একটি পেশা নয়, একটি জীবনধারা,
একটি স্বপ্ন যা মানুষের জীবন আলোকিত করবে।

৪ জুলাই ১৯৩৪, প্যারিসের একটি শান্ত সকাল।
মেরি কুরি তার ল্যাবরেটরিতে প্রবেশ করলেন,
হালকা বাতাস, ল্যাবের সরঞ্জাম, সাদা টেবিল—সবকিছু যেন তার পরিচিত আলোকমঞ্চ।

দীর্ঘ দশকের পরিশ্রম, অগণিত পরীক্ষা, রেডিয়েশনের প্রভাবে তার শরীর ক্লান্ত।
কিন্তু মেরির চোখে যে জ্যোতি—সত্য ও জ্ঞানের আলো—
সেটি এক মুহূর্তের জন্যও নিভেনি।

তার হাতে থাকা নোটবই, পরীক্ষার ফলাফল, সূচক—সবই মানুষের জন্য আলোর দিশা।
ল্যাবের ছোট্ট বাতাসের কণায় এখনও তার পরিশ্রমের ছাপ।
মেরি জানতেন, তার মৃত্যু এই পৃথিবীর বিজ্ঞানকে থামাতে পারবে না।

তিনি শেষবার নিজের ল্যাবের ডেস্কে বসে লিখলেন— “আমি জানি আমার শরীর সীমিত, কিন্তু জ্ঞান সীমাহীন।
এই জ্ঞানই মানুষকে আলোকিত করবে।”

৪ জুলাই ১৯৩৪, তার মৃত্যু হয়েছিল শান্তভাবে, কিন্তু তার কাজ—মানবজাতির জন্য আলোকের উৎস হয়ে রয়ে গেল।
আজও চিকিৎসা, গবেষণা, রেডিয়ামের ব্যবহার, এবং নারী বিজ্ঞানীদের পথচলা—
সবকিছু তার সাহস ও নিষ্ঠার ফল।

মেরি কুরি শুধু একজন বিজ্ঞানী নন,
তিনি ছিলেন এক জন অদম্য আত্মা,
যার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত মানুষকে দেখিয়েছে—

“সত্য, অধ্যবসায় এবং সাহস সব অন্ধকার দূর করতে পারে।”

মেরি কুরির মৃত্যু হলেও তার আলো এখনো বেঁচে আছে।
১৯৩৪ সালের পর, তার গবেষণা বিশ্বকে নতুন দিশা দেখিয়েছে। রেডিয়াম ও পলোনিয়াম শুধু বিজ্ঞান নয়,
মানবজাতির চিকিৎসা ও প্রযুক্তিতে বিপ্লব বয়ে এনেছে।

১৯৭৯ সালে, পোপ জন পল II ঘোষণা দিলেন— “মেরি কুরি ও গ্যালিলিওর কাজ সত্য এবং বিজ্ঞানসম্মত।”

আজকের দিনে, মহাকাশ, গবেষণাগার, চিকিৎসা—সবক্ষেত্রেই তার নাম চিরন্তন।
মহাকাশে, এক উপগ্রহ ও একটি চাঁদের গর্তের নাম রাখা হয়েছে Copernicus ও Curie-র মতো আলো প্রদর্শকের সম্মানার্থে।

মেরি কুরি দেখিয়েছেন—“সাহস, অধ্যবসায় এবং নিষ্ঠা একত্রিত হলে, মানুষ যে কোনো অন্ধকার জয় করতে পারে।”

তার জীবন আমাদের শিখিয়েছে—জ্ঞান শুধুমাত্র বইতে নয়, প্রয়োগ, সংগ্রাম এবং অদম্য মনোবলেই তার পূর্ণতা।এভাবেই মেরি কুরির আলো আজও পৃথিবীকে আলোকিত করছে,সাহসী নারী বিজ্ঞানীদের জন্য দিশারী হয়ে, মানবজাতির জ্ঞানের ভান্ডার সমৃদ্ধ করে।